একজন মেস সদস্য হিসেবে আমি যেভাবে ইচ্ছে চলতে পারি। বিশেষ কোন কারণ ছাড়া কেউ এসে কথা বলবে না। সবাই সবার ব্যাস্ত সময় পার করবে। মেস এর নিয়ম বহির্ভূত কাজ না করলে, কেউ কোন প্রশ্নও করবে না।
তখন কলেজ জীবন এর ১ম বর্ষ প্রায় শেষ হতে চলেছে। যেকোন কারণেই আমি কলেজ ক্লাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকলাম। সপ্তাহে ১-২ দিন কলেজ যাওয়ার প্রচুর চেষ্টা করতাম। কিন্তু, অধিকাংশ সপ্তাহগুলা ব্যার্থ ছিলো। কারণ টা আমি নিজেই, মানে আমার ঘুম !
.
অজয় ভাই ( অনার্স ১ম বর্ষ : ২০১৬) ছিলেন আমার একমাত্র রুমমেট। মানুষ হিসেবে খুব দারুণ। কখনোই ভুলার মত নয় উনাকে। মাঝে মাঝে জ্ঞান দিতেন বা লেখাপড়া এর গুরুত্ব বা কলেজে ক্লাশ করার বেনিফিট সম্পর্কিত কিছু কথা বুঝাতেন। কিন্তু আজকের এর দুনিয়ায় নিজের দেখাশুনা করার টাইম পায় না মানুষ, উনি আমাকে আর কত-ই বা দেখাশুনা করতে পারতেন !!
.
তো, রাতজাগা টা আমার এমন ছিলো যে, অকারণেই চ্যাটিং / গেমিং করতে করতেই ভোর রাত ৪-৫ টা বেজে যেতো। তখন ঘুমাতাম। স্বাভাবিকভাবেই আমি একটু বেশিই ঘুমাই, সেটা কখনো ১১-১২ ঘন্টাও হয়ে যেতো ! এমনিতে ত ৮-৯ ঘন্টা অবশ্যই ঘুম দিতাম !
.
সে যাই হোক, তখন কলেজে ক্লাশ ছিলো সকাল ৯ টায় ! অথচ আমি ঘুম থেকে উঠতাম দুপুর ১ টার পরে... কখনো ৪ টার আগে !!
.
ঘুম থেকে উঠে ফোনের ডাটা অন করে আরো কিছুসময় চ্যাট করে বা গেম খেলে, ব্রাশ করে গোসল করে আসতাম। এসে ঠান্ডা খাবার খাইতাম। বুঝেন ই তো, সবার শেষ এ যা থাকে, তা পেতাম... এবং সেগুলাই খাইতাম ! মেস এ এসে খাবার এর মানের নিকৃষ্টতা দেখে অবশ্য রুচি কমে গিয়েছিলো তখন !!
.
তো, এমনভাবে চলতে থাকায় কোচিং / প্রাইভেট এর কত্ত আনাগোনা ক্লাস যে মিস করেছি, তার হিসাব আমি দিতে পারব না !!
এরজন্য আজ খুব বেশি আফসোস হয়, জানি এখন আফসোস করেও লাভ হবে না। কারণ সময় থাকতেই সময়ের মূল্য দিতে হয়, যেইটা আগে দেওয়ার কথা ছিলো আমার ! আমি দিতে পারিনি !
.
.
গত মাসে ( জুলাই ২০১৭ ) আমার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা এর রেজাল্ট দিছে ! পাশ করেছি ( রেজাল্ট আহামরি কিচ্ছু হয়নি ) : এখন ভার্সিটি এডমিশন এর জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছি।
... তো হঠাত এই কথাগুলা লিখার ইচ্ছা জাগলো। যেহেতু এইটা আমার পারসোনাল ব্লগ, তাই আমি আমার মত করেই লিখার চেষ্টা করেছি আমার অগুছালো কথাগুলা।
.
মেস লাইফ নিয়ে চরম অভিজ্ঞতা শেয়ার করার চেষ্টা করব এই ব্লগ এর পরবর্তী কোননা না কোনও পোষ্টে।
.
... সব শেষে,
মেস লাইফে থাকাটা খুব কষ্টের হয়, কেউ আদর করে ডাকবেনা। নিজের বাসার মত করে, নিজের কোন কিছু কারো উপর চাপায়ে দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না। মাঝে মাঝে পড়তে বসলে ঘুম আসবে, কখনো বা পড়তেই ইচ্ছে করবে না।
.
... তবে সবকিছু ছাপিয়ে বড় কথা হলো, নিজের রুম এর ভিতর স্বাভাবিক ভাবে মারা গেলেও খুব দ্রুত কেউ টের পাবে না !! কারণ, এখানে আসলেই কেউ খুব অকারণে ডাকতে আসবে না ! কখনোই না...
[ অসমাপ্ত ]
-------------------
নীল সাগর
facebook.com/sagortimes
twitter.com/sagortimes
instagram.com/sagortimes
প্রকাশিত : আগষ্ট ২০ ২০১৭

No comments:
Post a Comment
উক্ত ব্লগপোষ্ট সম্পর্কিত কোন মন্তব্য করতে চাইলে নিচের কমেন্ট বক্স টি ব্যবহার করুন !